১০ বছর ধরে শয্যাশায়ী ঝিনাইগাতীর ঝমেলা, অন্ধকার ঘরে কাটছে জীবনের শেষ দিন
শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার দীঘিরপাড় গ্রামের ৭০ বছরের বেশি বয়সী ঝমেলা। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে দারিদ্র্য, অসুস্থতা ও একাকীত্বের সঙ্গে প্রতিনিয়ত লড়াই করছেন তিনি। দীর্ঘ ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে শয্যাশায়ী এই বৃদ্ধার দিন কাটছে অন্ধকার ঘরে, প্রায় বিনা চিকিৎসায়।
জানা গেছে, কোমর থেকে নিচের অংশ পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হওয়ায় ঝমেলা নিজে চলাফেরা করতে পারেন না। বিছানা থেকে ওঠা-বসা, এমনকি প্রস্রাব-পায়খানাসহ দৈনন্দিন কাজও করতে হয় শয্যাশায়ী অবস্থায়। অন্যের সহযোগিতা ছাড়া তার পক্ষে কোনো কাজই করা সম্ভব নয়।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রায় ৪০ বছর আগে ঝমেলার স্বামী মারা যান। তার একমাত্র ছেলে জীবিত থাকলেও নিয়মিত খোঁজখবর নেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রায় ২০ বছর আগে মারা যান তার একমাত্র মেয়েও। স্বামী, মেয়ে ও পরিবারের প্রয়োজনীয় সহায়তা হারিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অনেকটা অসহায় অবস্থায় জীবনযাপন করছেন তিনি।
অসুস্থতার পর চিকিৎসা করাতে গিয়ে একসময় নিজের ভিটার মাটিও বিক্রি করতে হয়েছে ঝমেলাকে। কিন্তু তাতেও ফিরে আসেনি সুস্থতা। বর্তমানে অর্থের অভাবে নিয়মিত চিকিৎসা করাতে পারছেন না তিনি। তার বসতঘরেও নেই বিদ্যুতের সংযোগ। ফলে দিনের আলো শেষ হলেই অন্ধকারে ডুবে যায় তার ছোট্ট ঘর। সেই অন্ধকারের মধ্যেই কষ্টে কাটে তার রাত-দিন।
ঝমেলা একসময় জুসনা নামে একটি মেয়েকে নাতনি হিসেবে লালন-পালন করেছিলেন। পরে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় জুসনার বিয়ে হয়। তবে বর্তমানে জুসনার পরিবারও আর্থিক সংকটে রয়েছে এবং অন্যের বাড়িতে বসবাস করছে। ফলে ইচ্ছা থাকলেও নিয়মিতভাবে ঝমেলার দেখাশোনা করাও তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।
বর্তমানে স্থানীয় মানুষের সহায়তায় কোনোভাবে খাবারের ব্যবস্থা হলেও চিকিৎসা, ওষুধ ও প্রয়োজনীয় পরিচর্যার অভাবে মানবেতর জীবনযাপন করছেন এই বৃদ্ধা। স্থানীয়দের দাবি, ঝমেলা কোনো সরকারি ভাতাও পান না।
জীবনের শেষ সময়ে এসে ঝমেলার চাওয়া খুব বেশি নয়—একটু চিকিৎসা, প্রয়োজনীয় ওষুধ, নিরাপদে থাকার ব্যবস্থা এবং নিয়মিত দেখাশোনার মতো মানবিক সহায়তা। স্থানীয়রা অসহায় এই বৃদ্ধার পাশে দাঁড়াতে সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, মানবিক সংগঠন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
আরও পড়ুন: চুরির অভিযোগে খুঁটিতে বাঁধা বাবা, রুটি-চা নিয়ে ছুটে এলো ছোট্ট মেয়ে
মোহাম্মদ দুদু মল্লিক