কেন্দুয়া-মদনের দুই গ্রামে উত্তেজনা, সংঘর্ষ এড়াতে স্থায়ী সমাধান দাবি
নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার জালালপুর গ্রাম ও পাশের মদন উপজেলার বাঁশরী গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধকে কেন্দ্র করে হাওরে টানটান উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত সাইডুলি নদীর দুই তীরে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দুই গ্রামের কয়েকশ মানুষ মুখোমুখি অবস্থান নিলে বড় ধরনের সংঘর্ষের আশঙ্কা দেখা দেয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গরুর ঘাস কাটাকে কেন্দ্র করে জালালপুর ও বাঁশরী গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সাইডুলি নদীর দেবদুল্লা ঘাট এলাকায় জালালপুর গ্রামের একটি মাছের ঘের কেটে ফেলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
একপর্যায়ে বিকেল ৫টা পর্যন্ত হাওরের মাঝখানে সাইডুলি নদীর দুই পাশে উভয় গ্রামের প্রায় ৭০০ থেকে ৮০০ মানুষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে অবস্থান নেন বলে স্থানীয়রা জানান। নদীটি দুই পক্ষের মাঝখানে থাকায় সরাসরি সংঘর্ষে জড়াতে পারেনি তারা। তবে পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত উত্তেজনাকর।
পরে পুলিশ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের হস্তক্ষেপে উভয় পক্ষকে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তবে এর কিছুক্ষণ পর বাঁশরী গ্রামের কয়েকজন উত্তেজিত ব্যক্তি নদী পার হয়ে জালালপুর গ্রামে প্রবেশ করে একটি হাঁসের খামারে ভাঙচুর চালিয়ে চলে যায় বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। এ ঘটনায় বুধবার রাতেও দুই গ্রামের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের সংঘর্ষ এড়ানো গেলেও দীর্ঘদিনের বিরোধের স্থায়ী সমাধান না হলে ভবিষ্যতে আবারও দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতে পারে। এতে প্রাণহানিসহ বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তারা।
কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম বলেন, “পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।”
স্থানীয়রা জানান, দুই গ্রামের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ নিরসনে দ্রুত প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। তাদের মতে, উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে স্থায়ী সমঝোতা করা না হলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের সংঘাতের ঝুঁকি থেকেই যাবে।
তাই সম্ভাব্য সংঘাত এড়াতে কেন্দুয়া ও মদন—দুই থানার পুলিশকে সমন্বিতভাবে নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি বিরোধের স্থায়ী সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
আরও পড়ুন: নিরাপদ খাবার কোথায়? ভোক্তার জীবন নিয়ে এমন ছিনিমিনি আর কতদিন
দুর্জয় বাংলা