শুক্রবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩

দুর্জয় বাংলা || Durjoy Bangla

জিলাপিতে ‘হাইড্রোজ’ কতটা ক্ষতিকর? জানুন আসল তথ্য

প্রকাশিত: ২১:৫১, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জিলাপিতে ‘হাইড্রোজ’ কতটা ক্ষতিকর? জানুন আসল তথ্য

জিলাপিতে ‘হাইড্রোজ’ কতটা ক্ষতিকর? জানুন আসল তথ্য

গরম তেলে ভাজা, চিনির রসে ডুবিয়ে রাখা জিলাপি দেখলেই জিভে পানি আসে। মিষ্টিপ্রেমীদের কাছে জিলাপি বরাবরই জনপ্রিয়। তবে এই মিষ্টিকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রশ্নও রয়েছে—জিলাপি তৈরিতে কি ‘হাইড্রোজ’ ব্যবহার করা হয়? আর করলে সেটি শরীরের জন্য কতটা ক্ষতিকর? ‘হাইড্রোজ’ বলতে আসলে কী বোঝায় এবং জিলাপি খেলেই কি শরীরে বড় ধরনের ক্ষতি হয়—এ নিয়ে রয়েছে নানা ধরনের ধারণা। বাস্তবে বিষয়টি বুঝতে হলে ‘হাইড্রোজ’ এবং ট্রান্স ফ্যাট সম্পর্কে জানা জরুরি।

‘হাইড্রোজ’ কী?
খাবারের প্রসঙ্গে ‘হাইড্রোজ’ শব্দটি অনেক সময় হাইড্রোজেনেটেড উদ্ভিজ্জ ফ্যাট, বনস্পতি বা শর্টেনিং বোঝাতে স্থানীয়ভাবে ব্যবহার করা হয়। হাইড্রোজেনেশন প্রক্রিয়ায় তরল উদ্ভিজ্জ তেলের বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন করে সেটিকে শক্ত বা আধা-শক্ত ফ্যাটে পরিণত করা হয়।

বিশেষ করে আংশিক হাইড্রোজেনেশন হলে এতে শিল্পজাত ট্রান্স ফ্যাট তৈরি হতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) তথ্য অনুযায়ী, আংশিক হাইড্রোজেনেটেড তেল শিল্পজাত ট্রান্স ফ্যাটের অন্যতম প্রধান উৎস। তবে ‘হাইড্রোজ’ শব্দটি শুনেই সেটিকে সরাসরি বিষাক্ত রাসায়নিক হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। খাবারে কোন ধরনের ফ্যাট ব্যবহার করা হয়েছে এবং তাতে ট্রান্স ফ্যাটের পরিমাণ কত—সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

সব জিলাপিতে কি ‘হাইড্রোজ’ থাকে?
না। সব জিলাপি একই ধরনের তেল বা ফ্যাট দিয়ে তৈরি হয় না। কোনো দোকানে সাধারণ ভোজ্যতেল ব্যবহার করা হতে পারে, আবার কোথাও বনস্পতি বা শর্টেনিং ব্যবহার করা হতে পারে। জিলাপির রং, গন্ধ, আকার কিংবা স্বাদ দেখে এতে কোন ধরনের ফ্যাট ব্যবহার করা হয়েছে, তা নিশ্চিতভাবে বোঝার সুযোগ নেই। তাই ‘জিলাপি মানেই হাইড্রোজ’—এমন ধারণার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।

আসল উদ্বেগ ট্রান্স ফ্যাট নিয়ে:
‘হাইড্রোজ’ শব্দটি নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার চেয়ে ট্রান্স ফ্যাটের বিষয়টি জানা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। শিল্পজাত ট্রান্স ফ্যাটের কোনো স্বাস্থ্যগত উপকার নেই। এটি রক্তে এলডিএল বা ‘খারাপ’ কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়াতে পারে এবং হৃদ্‌স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। দীর্ঘদিন বেশি পরিমাণে ট্রান্স ফ্যাট গ্রহণ করলে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা মোট দৈনিক ক্যালরির ১ শতাংশের কম ট্রান্স ফ্যাট গ্রহণের পরামর্শ দেয়। ২ হাজার ক্যালরির খাদ্যতালিকায় এর পরিমাণ দিনে প্রায় ২ দশমিক ২ গ্রামের কম হওয়া উচিত।

একটি জিলাপি খেলেই কি ক্ষতি হবে?
একটি জিলাপি খেলেই শরীরে বড় ধরনের ক্ষতি হয়ে যাবে—এমনটা ভাবার কারণ নেই। এখানে মূল বিষয় হলো **কত ঘন ঘন এবং কত পরিমাণে** জিলাপি খাওয়া হচ্ছে। জিলাপি সাধারণত তেলে ভাজা এবং চিনির রসে ভেজানো হয়। ফলে এতে ক্যালরি ও চিনি দুটিই যথেষ্ট পরিমাণে থাকে। নিয়মিত ও অতিরিক্ত জিলাপি খেলে অতিরিক্ত ক্যালরি গ্রহণ, ওজন বাড়া এবং রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণের মতো বিষয়গুলোতে সমস্যা তৈরি হতে পারে। অর্থাৎ, মাঝেমধ্যে একটি জিলাপি খাওয়া আর প্রতিদিন একাধিক জিলাপি খাওয়ার মধ্যে যথেষ্ট পার্থক্য রয়েছে।

নিয়মিত জিলাপি খাওয়া কেন ভালো নয়?
জিলাপি একই সঙ্গে চিনিযুক্ত ও গভীর তেলে ভাজা খাবার। তাই এটিকে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকার নিয়মিত অংশ না করাই ভালো। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অতিরিক্ত ফ্রি সুগার গ্রহণ সীমিত রাখার পরামর্শ দেয়। পাশাপাশি অস্বাস্থ্যকর চর্বির পরিবর্তে স্বাস্থ্যকর অসম্পৃক্ত চর্বিকে খাদ্যতালিকায় গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।

জিলাপি খেলে কী করবেন?
জিলাপি একেবারে বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে মাঝেমধ্যে অল্প পরিমাণে খাওয়াই ভালো। বিশেষ করে যাদের ওজন, রক্তে শর্করা বা হৃদ্‌স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে, তাদের মিষ্টি ও ভাজাপোড়া খাবারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় শাকসবজি, ফল, ডাল, বাদাম, মাছসহ পুষ্টিকর খাবারকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—কোন দোকানে কী ধরনের ফ্যাট ব্যবহার করা হচ্ছে, তা বাইরে থেকে সবসময় বোঝা সম্ভব নয়। তাই পরিচ্ছন্ন ও বিশ্বস্ত দোকান থেকে জিলাপি কেনা, পরিমাণে সংযত থাকা এবং মিষ্টি ও গভীর তেলে ভাজা খাবারকে নিয়মিত খাদ্যতালিকার অংশ না করাই ভালো।

তাহলে সিদ্ধান্ত কী?
জিলাপিতে ‘হাইড্রোজ’ আছে শুনেই আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। ‘হাইড্রোজ’ মানেই বিষ নয় এবং সব জিলাপিতে হাইড্রোজ ব্যবহার করা হয়—এমন দাবিরও ভিত্তি নেই। বরং খাবারে ট্রান্স ফ্যাটের উপস্থিতি, অতিরিক্ত চিনি ও মোট ক্যালরির বিষয়টি বেশি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত। তাই জিলাপিকে পুরোপুরি ভয় পাওয়ার বদলে পরিমিত খাওয়া, ভালো উৎস থেকে কেনা এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।

আরও পড়ুন: হুথি হামলার জবাব কঠোরভাবে দেওয়ার হুঁশিয়ারি সৌদি জোটের

তথ্যসূত্র: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO), মায়ো ক্লিনিক


Warning: Undefined variable $sAddThis in /home/durjoyba/durjoybangla.com.bd/details.php on line 871