হুথি হামলার জবাব কঠোরভাবে দেওয়ার হুঁশিয়ারি সৌদি জোটের
ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠীর সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার জবাব ‘দৃঢ়ভাবে’ দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোট। এসব হামলায় সৌদি আরবের তিনটি শহরে অন্তত ১৩ জন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার ভোরে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানায়, খামিস মুশাইত, আবহা ও তাইফ শহরে হুথিদের হামলায় ১৩ জন আহত হন। হামলায় সাতটি বাড়ি ও দুটি যানবাহনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কঠোর জবাব:
জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি বলেন, সৌদি আরবের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জোটের যৌথ বাহিনী হুথিদের হামলার জবাব দায়িত্বশীল ও কঠোরভাবে দেবে। তিনি বলেন, বেসামরিক জনগণ ও সৌদি ভূখণ্ডের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ইয়েমেনে বাড়ছে বাস্তুচ্যুতি:
এদিকে ইয়েমেনে চলমান সংঘাতের কারণে মানবিক পরিস্থিতির আরও অবনতি হচ্ছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয় দপ্তর (ওসিএইচএ) জানিয়েছে, চলতি মাসের শুরু থেকে সংঘাতের কারণে ইয়েমেনে অন্তত ১৮ হাজার পরিবার, অর্থাৎ প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, সংঘাতের কারণে মানুষ বাড়িঘর ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে। একই সঙ্গে বাড়ছে বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা এবং আগে থেকেই সংকটে থাকা মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের ওপরও চাপ আরও তীব্র হচ্ছে।
সৌদি হামলার দাবি হুথিদের:
অন্যদিকে, সোমবার রাতে হুথিরা দাবি করেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ইয়েমেনের লাহিজ, তাইজ, আল-জাওফ, মারিব ও হাজ্জাহ প্রদেশে সৌদি আরব ৫৪টি বিমান হামলা চালিয়েছে। হুথিদের দাবি, তাইজ প্রদেশের খাদির জেলার একটি সরকারি কমপ্লেক্সেও সৌদি বিমান হামলা হয়েছে। এতে কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে গোষ্ঠীটি। হুথি সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি বলেন, সৌদি ঘাঁটি থেকে পরিচালিত এফ-১৫ ও টাইফুন যুদ্ধবিমান এসব হামলায় অংশ নেয়। এর জবাবে প্রতিশোধ নেওয়ার হুমকিও দিয়েছে হুথিরা। সংঘাতের পাল্টাপাল্টি হামলায় একদিকে সৌদি আরবের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে, অন্যদিকে ইয়েমেনে বেসামরিক মানুষের দুর্ভোগ ও বাস্তুচ্যুতির পরিস্থিতিও আরও জটিল হয়ে উঠছে।
আরও পড়ুন: গণতন্ত্র রক্ষা করাই এখন সবচেয়ে বড় কাজ: রাষ্ট্রপত
দুর্জয় বাংলা
তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা