নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে হাতিয়া উপজেলা পরিষদের প্রবেশদ্বারে তীব্র উত্তেজনা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। সম্প্রতি জাতীয় সংসদ অধিবেশনে এবং বিভিন্ন দলীয় সমাবেশে হাতিয়ার বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও জনবিভ্রান্তিকর বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ তোলেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা। এই বিরোধের জেরে উপজেলার নির্ধারিত মাসিক আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় যোগ দিতে যাওয়ার সময় ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীদের তোপের মুখে পড়েন ওই সংসদ সদস্য। পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী হান্নান মাসউদ পরিষদ ভবনে পৌঁছালে সেখানে উপস্থিত বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের কর্মীরা তার সাম্প্রতিক বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানান।
পরিস্থিতি দ্রুত জটিল আকার ধারণ করে যখন সংসদ সদস্য নিজেও প্রতিবাদকারী নেতাকর্মীদের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, প্রবেশদ্বারে ছাত্রদল, যুবদল এবং এনসিপির সমর্থকদের মধ্যে প্রথমে কথা কাটাকাটি এবং পরবর্তীতে হাতাহাতি শুরু হয়। স্থানীয় কয়েকজন বিএনপি নেতার তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপে সেসময় পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে এবং হান্নান মাসউদকে আইনশৃঙ্খলা সভায় নিয়ে যাওয়া হয়। তবে সভার শেষ পর্যায়ে বাইরে আবারও হট্টগোল শুরু হলে সংসদ সদস্য নিজে সভা থেকে বেরিয়ে এসে আবারও তর্কে লিপ্ত হন, যা পরিস্থিতিকে আরও উসকে দেয়।
উভয় পক্ষের সংঘর্ষ ও হাতাহাতির ফলে সেখানে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয় এবং এতে উভয় পক্ষের অন্তত আটজন নেতাকর্মী আহত হন। আহতদের মধ্যে উপজেলা যুবশক্তির সদস্য সচিব ছাইফুল ইসলাম রাকিব এবং ছাত্রদল নেতা আকরাম, সাকিব, সাখাওয়াত হোসেন হিরো ও আজাদসহ বেশ কয়েকজন রয়েছেন। দীর্ঘক্ষণ ধরে চলা এই উত্তেজনা ও সংঘাতের একপর্যায়ে উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ বাহিনী এবং স্থানীয় জ্যেষ্ঠ বিএনপি নেতারা যৌথভাবে উদ্যোগ নিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন। পরবর্তীতে প্রশাসনের কঠোর নিরাপত্তায় ও সহযোগিতায় সংসদ সদস্য হান্নান মাসউদ ও তার অনুসারীরা নিরাপদে নিজ বাসভবনে ফিরে যান।
এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা নিয়ে উভয় পক্ষের রাজনৈতিক নেতার তরফ থেকে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য ও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এনসিপির উপজেলা আহ্বায়ক সামছুল তিব্রিজ এই ঘটনাকে সম্পূর্ণ অনাকাঙ্ক্ষিত উল্লেখ করে অভিযোগ করেন যে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বেপরোয়া আচরণ করে পরিকল্পিতভাবে আইনশৃঙ্খলা মিটিংয়ে এমপির ওপর হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে, হাতিয়া পৌরসভা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আশিক ইকবাল দাবি করেন যে সংসদ সদস্য হান্নান মাসউদের উসকানিমূলক বক্তব্যই এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী। তার মতে, সংসদ সদস্যের উগ্র আচরণ ও মিথ্যা প্রচারের কারণেই স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে এই ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এবং এখানে কোনো পূর্বপরিকল্পিত নাশকতা ছিল না।