শুক্রবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩

দুর্জয় বাংলা || Durjoy Bangla

গণতন্ত্র রক্ষা করাই এখন সবচেয়ে বড় কাজ: রাষ্ট্রপতি

প্রকাশিত: ২০:৫২, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গণতন্ত্র রক্ষা করাই এখন সবচেয়ে বড় কাজ: রাষ্ট্রপতি

গণতন্ত্র রক্ষা করাই এখন সবচেয়ে বড় কাজ: রাষ্ট্রপতি

দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম ও ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া এবং তা রক্ষা করাই এখন সবচেয়ে বড় কাজ বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম ও ত্যাগের বিনিময়ে দেশে গণতন্ত্র অর্জিত হয়েছে। এখন গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া এবং তা রক্ষা করাই সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সিলেট সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে নগর ভবন প্রাঙ্গণে আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

গণতন্ত্র হারানোর সুযোগ নেই:
রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশের মানুষ গণতন্ত্রের জন্য বারবার সংগ্রাম করেছে। বিভিন্ন সময়ে সেই গণতান্ত্রিক যাত্রায় বাধাও এসেছে। এবার যে সুযোগ তৈরি হয়েছে, কোনোভাবেই অবহেলার কারণে যেন গণতন্ত্র আবার হারিয়ে না যায়।
তিনি বলেন, বহু ত্যাগ-তিতিক্ষা, রক্তপাত এবং মানুষের প্রাণের বিনিময়ে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরির সুযোগ এসেছে। এখন এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হবে।

শুধু নির্বাচন নয়, কার্যকর করতে হবে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান:
রাষ্ট্রপতি বলেন, শুধু নির্বাচন আয়োজন করলেই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয় না। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্যকর করতে হবে। সংসদকে তার দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে। সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে মতপার্থক্য থাকাটা স্বাভাবিক উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব মতপার্থক্য আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে সরকার ও বিরোধী দল—উভয়েরই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তিনি বলেন, সংসদ যেন কার্যকরভাবে কাজ করে, বিভিন্ন বিষয়ে যে দ্বিমত রয়েছে তা যেন আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা হয়—এটাই আগামী দিনের রাজনৈতিক দায়িত্ব।

ধ্বংসস্তূপ থেকে দেশকে জাগিয়ে তুলতে হবে:
নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সরকার গঠিত হয়েছে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, এখন সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হলো ধ্বংসস্তূপ থেকে দেশকে আবার জাগিয়ে তোলা এবং মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করা। তিনি বলেন, গত ১৫-১৬ বছর দেশের ইতিহাসে একটি জটিল সময় গেছে। ওই সময়ে গণতন্ত্রের জন্য রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম করতে হয়েছে। অনেকে প্রাণ হারিয়েছেন, অনেকে আহত হয়েছেন। সেই ত্যাগের বিনিময়ে দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরির সুযোগ এসেছে। রাষ্ট্রপতি বলেন, অতীতে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করতে হয়েছে। এখন দেশের পুনর্গঠন এবং গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করার জন্য নতুন লড়াই শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য দেশ গড়ে তুলতে হবে।

জাতীয় স্বার্থে ঐকমত্যের আহ্বান:
রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে জাতীয় স্বার্থে ঐকমত্যের ওপর গুরুত্ব দিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশে সরকার ও বিরোধী দল থাকবে এবং বিভিন্ন বিষয়ে মতপার্থক্যও থাকবে। তবে জাতীয় স্বার্থের বিষয়গুলোতে সবাইকে ঐকমত্যে পৌঁছে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।

সিলেটের মানুষের প্রশংসা:
সিলেটের মানুষের প্রশংসা করে রাষ্ট্রপতি বলেন, এ অঞ্চলের মানুষের মধ্যে যেমন অতিথিপরায়ণতা ও শান্তিপ্রিয়তার ঐতিহ্য রয়েছে, তেমনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করারও দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। গণতন্ত্রের জন্য সিলেটের মানুষ অতীতেও অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছেন।

সিলেটের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ অঞ্চলের বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে স্থানীয় মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা কাজ করছেন। এরই মধ্যে বেশ কিছু বড় প্রকল্প সামনে এসেছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে সিলেটের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। রাষ্ট্রপতি বলেন, নিজেদের পায়ে দাঁড়াতে হলে নিজেদের দাবিও নিজেদের আদায় করে নিতে হবে। কেউ এসে অন্যের হয়ে সবকিছু করে দিয়ে যাবে না।

সিলেটের কৃতী ব্যক্তিদের স্মরণ:
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিলেটের কৃতী ব্যক্তিদেরও স্মরণ করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম সাইফুর রহমান, লোককবি হাছন রাজা, রাধারমণ দত্ত, সুফি সাধক শাহ আবদুল করিম, হেমাঙ্গ বিশ্বাস ও সৈয়দ মুজতবা আলীর মতো গুণী ব্যক্তিদের অবদানের কথা তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, শ্রম ও প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, জাতীয় সংসদের হুইপ জিকে গউছসহ অনেকে।

আরও পড়ুন: ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ দিয়ে শুরু সাফ, বাংলাদেশের খেলা কবে?

দুর্জয় বাংলা

সম্পর্কিত বিষয়:


Warning: Undefined variable $sAddThis in /home/durjoyba/durjoybangla.com.bd/details.php on line 871